৪ জানুয়ারী ২০১৬ পার্টির রাজ্য অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সম্পাদক পার্থ ঘোষ ও পলিটব্যুরো সদস্য কার্তিক পালের প্রেস বিবৃতি

১। বন্ধ চা-বাগানে অনাহার মৃত্যু বন্ধে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে অাপতকালীন ব্যবস্থা করতে হবে। ডানকান মালিক জি পি গোয়েঙ্কাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

পরিবর্তনের নামে যে সরকার প্রায় পাঁচ বছর রাজত্ব করল, সেই শাসনকালে উত্তরবাংলার তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের চা-বাগানগুলোতে প্রায় তিন শতাধিক চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের অনাহার মৃত্যু ঘটেছে। ডানকানের ১৬টি বন্ধ চা-বাগানে মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। রাজ্যজুড়ে অালোড়নের পর রাজ্য সরকার যে ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে তা বস্তুত চা-বাগান মালিকদেরই বেল-অাউট প্যাকেজ। চা-বাগানগুলোতে ন্যূনতম মজুরি অাইন কার্যকরী করতে রাজ্য সরকার বিন্দুমাত্র পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। রেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। চিকিৎসা পরিষেবা প্রায় উঠেই গেছে। একবিংশ শতাব্দীতে এই বাংলায় অনাহার মৃত্যু চলছে। অামরা দাবি করি —
(ক) বন্ধ চা-বাগানগুলো খোলার জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। (খ) চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি অাইন কার্যকরী করতে হবে। (গ) ডানকান চা-বাগান মালিক জি পি গোয়েঙ্কাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে ও তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বন্ধ বাগানগুলো খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। (ঘ) বন্ধ চা-বাগানগুলোর শ্রমিকদের ফাউলাই স্কীমের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। (ঙ) চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারবর্গের জন্য খাদ্য সুরক্ষা অাইন জরুরি ভিত্তিতে লাগু করতে হবে। (চ) অবসরপ্রাপ্ত চা-শ্রমিকদের জমির পাট্টা দিতে হবে। এই সমস্ত দাবিকে সামনে রেখে অাগামীকাল ৫ জানুয়ারী উত্তরবাংলার জেলাগুলোতে সকাল ১১টা থেকে ১২টা জাতীয় সড়ক অবরোধ ও গণঅাইন অমান্য সংগঠিত হবে এবং কলকাতায় দুপুর ২টোয় বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত হবে। অাগামী ২১ জানুয়ারী ২০১৬ সি পি অাই (এম এল) লিবারেশনের ডাকা শহীদ মিনারে জবাব চাই সমাবেশে উত্তরবাংলার তরাই ও ডুয়ার্সের চা-শ্রমিকরাও অংশগ্রহণ করবেন।

২। তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও গণতন্ত্র হরণের বিরুদ্ধে এবং জনগণের বুনিয়াদী ১৮ দফা দাবিতে অাগামী ২১ জানুয়ারী ২০১৬ শহীদ মিনারে ”জবাব চাই সমাবেশ”। রাজ্য জুড়ে এই সমাবেশকে সফল করার জন্য পার্টি ও গণসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো প্রচারাভিযান চলছে। শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশন থেকে মিছিলের পাশাপাশি শ্যামবাজার, হাজরা মোড় ও মল্লিকবাজার থেকে মিছিল সকাল ১১টায় শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে বের হবে। সমাবেশ শুরু হবে দুপুর ১২টায়।

অামরা মনে করি বাম-গণতান্ত্রিক অান্দোলনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্থানীয় ও রাজ্য স্তরে জনগণের মৌলিক দাবিগুলোকে নিয়ে ব্যাপকতর গণঅান্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। বৃহত্তর বাম-গণতান্ত্রিক ঐক্যের জন্য জনগণের গণঅান্দোলন ও শ্রেণীঅান্দোলনই একমাত্র রাস্তা এবং এ প্রশ্নে বামপন্থী দলগুলো যৌথ কিছু কর্মসূচীও সাম্প্রতিক সময়ে গ্রহণ করেছে। সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদ নির্দেশিত নয়া অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে যৌথ কর্মসূচী চলছে। কিন্তু অতিসম্প্রতি সি পি এমের কেন্দ্রীয় প্লেনাম ও বিভিন্ন সাংবাদিক বৈঠকে যেভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়া করার রাস্তা খোলা রাখার কথা বলা হচ্ছে তা বাম-গণতান্ত্রিক অান্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কংগ্রেসের সঙ্গে প্রকাশ্য বা পরোক্ষ যে কোনো অাঁতাত বামপন্থী দলগুলোর যৌথ কার্যক্রমকে দুর্বল করে দেবে। অাজ দেশে বিজেপির নেতৃত্বে যে কর্পোরেট-ফ্যাসিবাদী অাগ্রাসন শুরু হয়েছে তার উত্থানের জন্য কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের অর্থনীতি ও সমাজনীতি প্রধানত দায়ী। সেই কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপি-বিরোধিতাও সম্ভবনয় অার তৃণমূল কংগ্রেসের স্বৈরাচারী রাজনীতিকেও পরাস্ত করা সম্ভব নয়। সংসদীয় সুবিধাবাদ বাম অান্দোলনকে বিপথ চালিত করবে।

Top